ঘড়ির যত ব্র্যান্ডালাপ: ১ম পর্ব – ঘড়ি


0

ব্র্যান্ড এমন একটা জিনিস, যা পণ্য বিক্রি হওয়ার ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে পণ্যের গুণাগুণ থেকেও বেশি ভূমিকা রাখে। যার উদাহরণ আজকের স্যামসাং কিংবা ডলস অ্যান্ড গাব্বানা কিংবা রে-ব্যান, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘড়ির ক্ষেত্রেও এমন কিছু কোম্পানি আছে, যেসকল কোম্পানির ঘড়িগুলো কিনে নেয়ার আগে “টেকসই হবে তো?” “দামটা উসুল করে নেয়া যাবে তো?” এমন যৌক্তিক ব্যাপারগুলো ক্রেতাদের চিন্তা করতে হয় না, কারণ কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ড ভ্যালু এত উচ্চমাপের, যে, তাদের নামই তাদের পণ্যের মানের গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে। তেমনই কিছু বিখ্যাত ঘড়ির ব্র্যান্ড নিয়ে আজকের এই লেখা।

১. প্যাটেক ফিলিপ

কুইন ভিক্টোরিয়া কিংবা প্রিন্স অ্যালবার্টের সবচেয়ে পছন্দের ব্র্যান্ডের ঘড়ি কোনটি যদি জিগ্যেস করা হয়, তবে এই ব্র্যান্ড টির নামই সবার প্রথমে আসার কথা। প্যাটেক ফিলিপ মূলত একটি সুইস কোম্পানি, ১৮৫১ সালে প্রথম এই কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। এরা সাধারণত বিলাসবহুল ঘড়িই তৈরি করে,
এমনকি বিলাসবহুল ঘড়ি তৈরির মানদণ্ড হিসেবে একে শুরু থেকেই বিবেচনা করে আসা হচ্ছে। একটা বনেদী ভাবসহ প্রথম শ্রেণির ডিজাইনের জন্য এই ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলো এতটা জনপ্রিয়।

ছবি- improb.com

তাছাড়া এই ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলোতে কিছু জটিল জিনিসপত্রও দিয়ে দেয়া হয়,
যেমন স্টার চার্ট,
চাঁদের দশা, চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডার ইত্যাদি। তবে যদি ঘড়িগুলোর বাইরের চেহারা বিবেচনা করে কিনতে চান, তবে মোটামুটি হতাশ হবার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়,
কারণ ঘড়িগুলোর ডায়াল দেখতে অতটাও চকচকে বা চমকপ্রদ হয় না। তাছাড়া অন্ধকারেও এগুলো অন্যান্য ঘড়ির মত অতটা জ্বলজ্বল করে না। তবুও বনেদী,
কিংবা উচ্চবিত্ত লোকেরা এই ব্র্যান্ডের ঘড়ির জন্য আক্ষরিক অর্থেই পাগল,
তা সে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনই হোন,
কিংবা ব্র্যাড পিট বা পাবলো পিকাসো!

২. ওডমার্স পিগেট

ছোটবেলার দুই বন্ধু জুল-লুই অডেমার্স এবং এডওয়ার্ড অগাস্ট পিগেট এই সুইস ঘড়ি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৮১ সালে প্রথম এর যাত্রা শুরু হয়। খুবই ভালো এবং অভূতপূর্ব মানের ঘড়ি তৈরির জন্য দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওডমার্স পিগেট কোম্পানি ঘড়িপ্রেমীদের কাছে নির্ভরযোগ্য একটি ব্র্যান্ড। ১৮৮২তে প্রথমবারের মত রিপিটার হাতঘড়ি তৈরি করতে সক্ষম হয় এই কোম্পানিটিই।

ছবি- improb.com

তাছাড়া পৃথিবীর সবচে সরু ঘড়ি কিংবা সবচেয়ে বড় সাইজের ঘড়ি অথবা প্রথমবারের মত স্টিল নির্মিত স্পোর্টসওয়াচ তৈরি, ইত্যাদি কৃতিত্বের একমাত্র দাবিদার ওডমার্স পিগেট কোম্পানিই৷ এমনকি টিফানি অ্যান্ড কো., বুলগেরি প্রভৃতি বিখ্যাত কোম্পানিও ক্ষেত্রবিশেষে ডিজাইনের জন্য এই ওডমার্স পিগেট কোম্পানিকেই অনুসরণ করে। লে’ব্রন জেমস,
টম ক্রুজ, সেরেনা উইলিয়ামস প্রভৃতি ব্যক্তিত্বদের প্রথম পছন্দ ওডমার্স পিগেট কোম্পানির ঘড়িই।

৩. ভ্যাশেরন কনস্ট্যান্টাইন

এই কোম্পানিটি বিলাসবহুল ঘড়ি তৈরির সবচে পুরনো কোম্পানিগুলির মধ্যে অন্যতম। জিন-মার্ক ভ্যাশেরন কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৫৫ সালে। ঘড়িটির সত্যিকারের পরিচয় পাওয়া যায় এর সুনির্দিষ্ট বিবরণ, জটিল ডিজাইন এবং দক্ষ কারিগরিতে। ১৭৭০ সালে ভ্যাশেরন এমন মেকানিক্যাল ঘড়ি আবিষ্কার করেন যা দিয়ে শুধুমাত্র ঘন্টা কিংবা মিনিটের চেয়েও বেশি কিছু দেখা যেত। এর কয়েক বছর পরেই তিনি প্রথম ইঞ্জিনচালিত ঘড়ি আবিষ্কার করেন। 

ছবি- improb.com

বর্তমানে ভ্যাশেরন কনস্ট্যান্টাইন কোম্পানিটি রিচমন্ড নামে অন্য একটি সুইস কোম্পানির মালিকানাধীন, যেটি মূলত সুইটজারল্যান্ড-ভিত্তিক,
এবং বিলাসবহুল জিনিসপত্র তৈরি করায় পারদর্শী। ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্লন ব্রান্ডো, রিক রোজ প্রভৃতি এই ব্র্যান্ডের ঘড়ি পরেন৷ 

৪. রোলেক্স

দামী ঘড়ির কথা বললেই চোখে ভেসে ওঠে,
তেমন একটি ঘড়ির ব্র্যান্ড হচ্ছে রোলেক্স। সম্ভবত রোলেক্সের ঘড়িগুলো গোটা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং জনপ্রিয়। যদিও রোলেক্স কোম্পানির শুরু হয় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, কিন্তু পরবর্তীতে এটিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থানান্তর করা হয়। আজকাল বেশিরভাগ মানুষই রোলেক্সকে আভিজাত্যের একটা নিদর্শন বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেন, এবং অনেকে নিজেকে সফল প্রমাণ করার জন্যও ঘড়িটি পরে থাকেন৷ আসলে ব্র্যান্ড টি এসবের উর্ধ্বে।

ছবি- improb.com

যদিও রোলেক্স ঘড়ির দাম প্রচুর, কিন্তু এর কাটিং এজ (cutting edge) ডিজাইন আর অনন্য কারিগরিতে দামটা বেশ ভালোভাবেই উসুল হয়ে যায়! মার্টিন লুথার কিং, দালাই লামা,
এলভিস প্রিসলির মত নমস্য ব্যক্তিদের প্রথম পছন্দ এই ঘড়ি। তাছাড়া জিরো জিরো সেভেন খ্যাত স্পাই জেমস বন্ডও রোলেক্সের ঘড়িই পরেন। অবশ্য রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলোকেই সবচেয়ে বেশি নকল করে বিক্রি করা হয়। তাই খ্যাতির বিড়ম্বনাও কম নয় এই ব্র্যান্ডের ঘড়িগুলোর!

৫. ব্ল্যাংকপেইন

আপনি যদি ঝাঁ চকচকে একটি ঘড়ি চান,
তবে ব্ল্যাংকপেইন হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। এরা এত যত্নের সাথে ঘড়ি তৈরি করে যে, দিনে ত্রিশটির বেশি ঘড়ি তৈরি করা সম্ভব হয় না। ব্ল্যাংকপেইন সোয়াচ গ্রুপের একটি সহায়ক কোম্পানি, যাদের কাছে মোটামুটি সব ধরনের ঘড়িই আছে। খুব সাধারণ ডিজাইনের ঘড়ি থেকে শুরু করে প্রচন্ডরকম জটিল ডিজাইনের ঘড়িও এরা তৈরি করে থাকে। ব্ল্যাংকপেইন হচ্ছে পৃথিবীর সবচে পুরনো ঘড়ির কোম্পানি, যেটি আজ পর্যন্ত টিকে আছে।

শুধু যে টিকে আছে তাই নয়, উন্নতমানের ঘড়ি তৈরি আর নিজেদের ডিজাইনকে উন্নততর করে অন্যান্য বিলাসবহুল ঘড়ি কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসাও করে চলেছে! ভ্লাদিমির পুতিন, ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা প্রভৃতি এই ব্র্যান্ডের ঘড়ি পরতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। 

ছবি- improb.com

বিখ্যাত ব্র্যান্ড শুধুমাত্র এই ক’টিই নয়, বরং আরও অনেকগুলিই আছে। সেসব ব্র্যান্ড নিয়ে আলোচনা করা হবে এই লেখার দ্বিতীয় পর্বে। 

তথ্যসূত্র- https://improb.com/­top-luxury-watch-bran­ds-in-world/

ফিচার ছবি- improb.com


Like it? Share with your friends!

0
Sohag Alom

0 Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *