ঘড়ি বৃত্তান্ত: ১ম পর্ব


0

ঘড়ি বৃত্তান্ত: ১ম পর্ব

Brand, Famous Collection, Features, Fun Facts, History

July 18, 2019

February 19, 2020

Imran Khan

সময় দেখা মূল বিষয় হলেও বর্তমান সময়ে ঘড়ি এর চেয়েও বেশি কিছু দিয়ে থাকে।
ঘড়ি সৌন্দর্যের প্রতীক। ব্যক্তির সুরুচি ও ভালো ব্যক্তিতের বহিঃপ্রকাশও ঘড়ি হতে
পারে। এজন্যেই হয়ত দেখা যায় যে আপনি কোথায় কোন অনুষ্ঠানে কোন পোশাক পরে যাবেন সেটি
ঠিক করার সাথে সাথে কোন ঘড়িটি আপনার পোশাকের সাথে সবচেয়ে ভালো মানাবে সেটিও খেয়াল
করেন। ঘরের দেয়ালের রঙের সাথেও কোন ধরনের ঘড়িটি ভালো মানাবে সেটি গুরুত্ব দিয়ে
নির্বাচন করেন। ঘড়ি আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদানের একটি। অন্যান্য যেকোনো
আবিষ্কারের মত ঘড়িও একটি ইতিহাস রয়েছে এবং রয়েছে বিবর্তনের ধারা। তাহলে আজকে আমরা
ঘড়ির ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করব।  

প্রাচীনকাল

তখন হাত ঘড়ি বা দেয়াল ঘড়ি, কোন প্রকার ঘড়িই তৈরি হয় নি। তবে সময় নির্ণয় ,
দিন গণনা করা তখনও মানুষের গুরুত্বের এক বিষয়। তাই এখনকার দিনে আমরা যা ঘড়ি বলে
জানি তা আগে ছিল সময় নির্ণয়ের পদ্ধতি। এর মধ্যেই অন্যতম ও বিখ্যাত হল মিশরীয়দের
ছায়ার মাধ্যমে সময় নির্ণয় পদ্ধতি। সূর্যের আলো যখন কোনো দন্ড বা কাঠির উপর আপতিত
হত তখন এর ছায়া তৈরি হত। এই ছায়ার দৈর্ঘ্য দিনের বিভিন্ন সময়ে কম-বেশি হত আর এই
ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখেই সময় নির্ণয় করা হত। রাতে স্বাভাবিক ভাবেই এই পদ্ধতি কাজে দিত
না। এর পরবর্তী সময়ে পানি ঘড়ি , বাতি ঘড়ির প্রচলনও হয়েছিল।

মেকানিকাল ঘড়ি

মেকানিকাল ঘড়িকেই আমরা বলতে পারি আমাদের বর্তমান ঘড়ির আদি মাতা। ইউরোপে
প্রথম ঘড়ি নির্মাণ করেছিলেন খ্রিস্টান সাধুগণ। পোপ সিল্ভেস্টার দ্বিতীয় একাদশ শতাব্দীতে প্রথম ঘড়ি
নির্মাণ করেন। এই ঘড়িগুলো ঘণ্টায় ঘণ্টায় বেল বাজিয়ে সময় আবহিত করতে ব্যবহৃত হত। পরবর্তী
সময়ে পুরো ইউরোপ জুড়ে এর বিস্তার ঘটে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেমন ফ্রান্স ,ইটালির
গির্জা গুলোতে এই ঘড়িগুলো দেখা জেত।

গ্যালিলিও গ্যালালি এবং প্যান্ডুলাম

বাসা বাড়ির দেয়ালে এক ধরনের ঘড়ি যার সময় অংশের নিচে একটি বড় কাটা বা শলাকা
ডান-বাম দুলতে থাকে, এরকম একটি দৃশ্য আমরা সবাই হয়ত দেখেছি, বিশেষ করে কোন
চলচ্চিত্রের মাকড়সার জাল দিয়ে ঘেরা পুরাতন প্রাসাদের ভেতর এমন ঘড়ির দৃশ্য দেখাই
জেত। এই ঘড়িটি হল প্যান্ডুলাম ঘড়ি।

গ্যালালিও গ্যালালি যাকে মধ্যযুগের নতুন ধারার বিজ্ঞানের জনক বলা হয়, যিনি
টেলিস্কোপ আবিষ্কার ও জুপিটারের (বৃহস্পতি) গ্রহের উপগ্রহ আবিষ্কার করেন তিবি সময়
নির্ণয় পদ্ধতিতেও অবদান রাখেন।  তিনিই
প্রথম প্যান্ডূলাম আবিষ্কার করেন এবং পিসার হেলানো দুর্গের উপর থেকে পড়ন্ত বস্তুর
গতিবেগও নির্ণয় করেন।যারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তারা অবশ্যই ৯ম-১০ম শ্রেনীর
পাঠ্যবইয়ে এর চিত্র দেখেছে। দোদুল্যমান বস্তুর দোলনকাল নির্ণয়ের সূত্রও তিনি দেন।

Wikimedia Commons
গ্যালালিওর আবিষ্কারের ৫০ বছর পর খ্রিস্টিয়ান হাইজেন নামে একজন গণিতবীদ বড়
আকারের প্যান্ডুলাম ঘড়ি তৈরি করে ছিলেন। প্যান্ডুলাম ঘড়ি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বড়
বড় ওয়াচ টাওয়ার, গির্জার উপরে, রাজ প্রাসাদের ভিতরে কাঠের তৈরি এই প্যান্ডুলাম
ঘড়িগুলো দেখ যায়।

পকেট ঘড়ি

পূর্বের বহুল ব্যবহৃত এবং বর্তমান সময়ে মানুষের কেবল নান্দনিক রুচির
বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই এই ধরনের ঘড়ি আমরা দেখে থাকি। জার্মান তালা কারিগর পিটার হেনলে
১৫১০ সালে প্রথম পকেট ঘড়ি নির্মাণ করেন। পকেট ঘড়ি তৈরির আগে জনগণের নিকট ঘড়ি
ব্যবহার করা সম্ভব হত না, কেননা এর পূর্বের ঘড়ি গুলো ছিল গির্জার উচু দেলগুলোতে।
পকেট ঘড়ি বাজারে এসে মানুষ ও ঘড়ির মধ্যকার দূরত্ব দূর করে। যদি প্রথম দিকে অর্থাৎ
ষোড়শ শতকে যে ঘড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল সেগুলো খুব ভাড়ী হওয়ায় নেক্লেস হিসেবে
ব্যবহার করা হত। এরও প্রায় একশত বছর পরে এই ঘড়ি মানুষের পকেটে বা হাতের মুঠোয়
এসেছে। পকেট ঘড়ির ব্যবহার ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সে সময়ের মানুষের সামজিক অবস্থান
নির্ণয়ের মাপকাঠি ছিল এই পকেট ঘড়ি। যার কাছে পকেট ঘড়ি আছে তিনি খুব অভিজাত শ্রেনির
লোক অথবা তিনি অভিজাত শ্রেনির লোক বলেই তার নিকট পকেট ঘড়ি আছে। সময়ের গুরুত্ব ,
সময়ের ছিল কেবল ধনীদের হাতের মুঠোয়। তবে যারা
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল তারাও পৈত্রিক সূত্রে এই ঘড়ি ব্যবহার করত। ঘড়ির জগতে পকেট
ঘড়িই বিপ্লব নিয়ে আসে। নির্ভুল সময় নির্ণয় তখন থেকেই শুরু হয়।

scienceabc.com

হাত ঘড়ি         

watchpro.com
১৯০৪ সালে ফ্রেঞ্চ-ব্রাজিলিয়ান বিমান চালক আলবেরত সান্তো ডু’মো বিখ্যাত
অলঙ্কার কোম্পানি কারটিয়েরকে তার নিজের জন্যে হার ঘড়ি তৈরি করতে বলেন। তার
নির্দেশেই লুই কারটিয়ের হাত ঘড়ি তৈরি করেন। তবে এরও আগে সুইস কোম্পানি পাতেক ফিলিপ
১৮৬৮ সালে হাঙ্গেরির কাউন্টেস কোস্কউইয নামে এক নারীর জন্যে হার ঘড়ি তৈরি
করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হাত ঘড়ির ব্যবহার দেখা যায়।   

কোয়ার্টজ ঘড়িঃ ১৯৩০ সালে ব্যাটারি চালিত ঘড়ি তৈরি করা শুরু হয়। তখন ঘড়ি
নির্মাণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ ঘড়ি
ব্যভার করা শুরু করে।  ব্যাটারি চার্জের
মাধ্যমে এই ঘজড়ি গুলো কাজ করত। এতে  সময়
নির্ণয় আরো নির্ভুল হয়ে যায়।

এটমিক ঘড়ি

এটমিক ঘড়ির মাধ্যমে ঘড়ির জগতে বিশাল পরিবর্তন আসে। ১৯৬৭ সালে প্রথম এটমিক
ঘড়ি তৈরি করা হয়। এটমিক ঘড়ির মাধ্যমে সময় নির্ণয় অত্যন্ত্য নির্ভুল কেননা এখানে
পরমানু ব্যবহার করা হয়। সিজিয়াম পরমানু ব্যবহার করা হয়েছিল এটমিক ঘড়িতে । সিজিয়াম পরমানু সেকেন্ডে নয়শত উনিশ কোটি ছাব্বিশ লক্ষ একত্রিশ হাজার সাতশ সত্তর (৯১৯,২৬,৩১,৭৭০) বার
কম্পিত হয়। এটি পরবর্তীতে সময় নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক মান হিসেবে গৃহীত হয়। এটমিক
ঘড়ির নির্ভুলতা এমন যে এটি কয়েক মিলিয়ন বছরের মাঝেও এক সেকেন্ডের ব্যবধান ঠিকভাবে
নির্ণয় করতে পারে।

quillandpad.com
তথ্যসূত্র

  1. https://www.youtube.com/watch?v=At5atF4mKiU
  2. https://www.govbergwatches.com/blog/history-of-horology/
  3. https://www.greenwichpocketwatch.co.uk/history-of-the-pocket-watch-i150
  4. https://www.timecenter.com/articles/christiaan-huygens-and-the-pendulum-clock-by-timecenter/
  5. https://www.quora.com/Who-invented-the-wristwatch

ফিচার ইমেজ- Wikimedia commons


Like it? Share with your friends!

0
Sohag Alom

0 Comments

Your email address will not be published. Required fields are marked *